ঢাকা
১৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
সংবিধান সংশোধন সংসদেই সম্ভব, রাজপথে বলে লাভ নেই : গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিজয়ে বিরোধীদলীয় নেতার অভিনন্দন মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ জন গ্রেফতার সাংবাদিকরা হবেন তথ্য কমপ্লেক্সের প্রথম ব্যবহারকারী : তথ্যমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগো দেখানোর কিছু নেই-সবাইকে নিয়ে বসুন: শিশির মনির যেকোনো মূল্যে ৭০ অনুচ্ছেদ সংধোশন করতে হবে: ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা জানালেন হাসনাত
Advertise with us

সন্তানের আকিকা দেরি হলে কী করবেন?

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬   ৫৬ বার পঠিত
সন্তানের আকিকা দেরি হলে কী করবেন?

ছবি: সংগৃহীত

সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা সুন্নত। তবে নানা কারণে অনেক পরিবার নির্ধারিত সময়ে আকিকা করতে পারেন না। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, সপ্তম দিন পার হয়ে গেলে কি আর আকিকা করা যাবে না? ইসলামি শরিয়তের আলোকে আলেমরা বলেন, নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলেও সামর্থ্য হলে পরে আকিকা করা যাবে। এতে আকিকার সুন্নতই আদায় হবে।

সপ্তম দিনই সর্বোত্তম

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সঙ্গে দায়বদ্ধ থাকে। জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু জবাই করা হবে, তার নাম রাখা হবে এবং মাথার চুল মুণ্ডন করা হবে।’ (সুনান তিরমিজি: ১৫২২)

আলেমরা বলেন, এ হাদিস আকিকার গুরুত্ব ও এর প্রতি উৎসাহের কথা তুলে ধরে। হাদিস অনুযায়ী সন্তানের জন্মের সপ্তম দিনই আকিকা করার সর্বোত্তম সময়। তাই বিশেষ কোনো ওজর না থাকলে এদিনই আকিকা করা উত্তম।

সপ্তম দিনে না পারলে কী করবেন?

সপ্তম দিনে আকিকা করতে না পারলে তা আর আদায় হবে না—এ ধারণা সঠিক নয়। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সপ্তম দিনে আকিকা করবে। সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে করবে। তাও সম্ভব না হলে একুশতম দিনে করবে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৬৯)

ফকিহদের মতে, এ সময়গুলো অতিক্রম হয়ে গেলেও পরবর্তী যেকোনো দিন আকিকা করা বৈধ। তাই সন্তানের বয়স বেড়ে গেলেও সামর্থ্য হলে তার পক্ষ থেকে আকিকা করা যাবে।

সামর্থ্য না থাকলে কি গুনাহ হবে?

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ আকিকা করতে না পারলে তার গুনাহ হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা বাকারা: ২৮৬)

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আমি যখন তোমাদের কোনো কাজের নির্দেশ দিই, তখন তোমরা সাধ্য অনুযায়ী তা পালন করো।’ (সহিহ বুখারি: ৭২৮৮)

তাই সামর্থ্য না থাকলে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। পরে আল্লাহ তাআলা সামর্থ্য দিলে আকিকা করে নেওয়াই উত্তম।

ছেলে ও মেয়ের আকিকার বিধান

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সন্তানের আকিকা করতে চায়, সে যেন তা করে। ছেলের জন্য সমমানের দুটি ছাগল এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৭৯৬১)

তবে অনেক আলেমের মতে, বিশেষ প্রয়োজনে বা আর্থিক সামর্থ্য কম থাকলে ছেলের পক্ষ থেকেও একটি পশু জবাই করলে আকিকার মূল সুন্নত আদায় হয়ে যায়।

কোরবানির সঙ্গে আকিকা করা যাবে?

অনেক সময় আলাদাভাবে পশু জবাই করা সম্ভব হয় না। হানাফি মাজহাবের ফকিহদের মতে, সে ক্ষেত্রে কোরবানির গরুর নির্ধারিত অংশে আকিকার নিয়ত করলেও আকিকা আদায় হয়ে যায়। তবে সামর্থ্য থাকলে আকিকার জন্য আলাদাভাবে পশু জবাই করাই উত্তম।

আকিকার গুরুত্ব

আকিকা সন্তানের জন্ম উপলক্ষে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। একই সঙ্গে এটি নবীজি (স.)-এর অনুসৃত একটি আমল, যা একজন মুসলমানের সুন্নতের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রকাশ। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে আকিকা করা সম্ভব না হলে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। সামর্থ্য হলে সুবিধাজনক সময়ে এ সুন্নত আদায় করে নেওয়াই উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নত অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের সন্তানদের নেককার বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

সূত্র: সহিহ বুখারি, সুনান তিরমিজি, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, মুস্তাদরাকে হাকেম, সুরা বাকারা এবং ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাবলি  ।  সূএ :ঢাকা মেইল ডটকম

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us