ঢাকা
২৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ওয়াদাগুলো একটি একটি পূরণ করছেন: মঈন খান বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে বৈশ্বিক পারমাণবিক জ্বালানি ক্লাবে বাংলাদেশ : তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য জহুরুলের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক নবীজির আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণেই গড়ে উঠবে আদর্শ নেতৃত্ব: ছাত্র জমিয়ত সভাপতি বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের দেশে ফেরা বাদ দিন, শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশে হবে না: সারজিস অসহায় পরিবারের হাতে আগে ফ্যামিলি কার্ড দিতে হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন ঠেকাতে রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান আইনমন্ত্রীর
Advertise with us

অজুতে যে ভুল আমরা অনেকেই করি

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬   ৭৯ বার পঠিত
অজুতে যে ভুল আমরা অনেকেই করি

ছবি: সংগৃহীত

অজু নামাজের পূর্বশর্ত এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কিন্তু অজু করতে গিয়ে অনেকেই এমন কিছু ভুল করে বসেন, যা সুন্নাহর পরিপন্থী কিংবা অজুর পূর্ণতা নষ্ট করতে পারে। তাই সঠিক পদ্ধতিতে অজু সম্পন্ন করতে নিচের কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

১. প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার

অজুর সময় আমাদের করা সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো পানির অপচয়। অনেকেই অজুর পুরো সময় ট্যাপ খুলে রাখেন, ফলে অহেতুক কয়েক লিটার পানি নষ্ট হয়। অথচ ইসলাম অজুর সময়ও অপচয়কে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করেছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আনআম: ১৪১)
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, একবার রাসুলুল্লাহ (স.) সাদ (রা.)-কে অজু করতে দেখে বললেন, ‘এই অপচয় কেন?’ সাদ (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘অজুতেও কি অপচয় হতে পারে?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, যদিও তুমি প্রবাহিত নদীর তীরে থাকো।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৫)

২. অজুর কোনো অঙ্গ শুকনো রেখে দেওয়া

পানির অপচয় বর্জন যেমন জরুরি, তেমনি অজুর ফরজ অঙ্গের প্রতিটি জায়গায় পানি পৌঁছানোও অপরিহার্য। অনেক সময় শীতকালে কিংবা তাড়াহুড়ো করে অজু করতে গিয়ে পায়ের গোড়ালি, হাতের কনুই বা নখের কোণায় পানি পৌঁছায় না। এটি এমন এক ভুল, যা অজুকেই অসম্পূর্ণ রেখে দেয়।
একবার রাসুলুল্লাহ (স.) কয়েকজনকে এমন অবস্থায় অজু করতে দেখলেন যে, তাদের পায়ের গোড়ালি শুকনো ছিল। তখন তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গোড়ালিগুলোর শুকনো অংশের জন্য জাহান্নামের আজাব রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি: ১৬৩; সহিহ মুসলিম: ২৪১)

৩. সুন্নাহর চেয়ে বেশি ধোয়া

রাসুলুল্লাহ (স.) কখনো একবার, কখনো দুইবার এবং কখনো তিনবার করে অজুর অঙ্গ ধুয়েছেন। তবে তিনবারের বেশি ধোয়ার কোনো সহিহ প্রমাণ নেই। তাই অধিকাংশ আলেম প্রয়োজন ছাড়া তিনবারের বেশি ধোয়াকে মাকরুহ বা সুন্নাহর খেলাফ বলে উল্লেখ করেছেন। অজুর ফরজ আদায়ে সুন্নাহর এই সীমা মেনে চলাই ইবাদতের দাবি।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) অল্প পানি দিয়ে অজু সম্পন্ন করতেন। সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (স.) মাত্র এক ‘মুদ’ পরিমাণ পানি দিয়ে অজু করতেন, যা বর্তমান হিসাবে আনুমানিক এক লিটারেরও কম। এটি আমাদের জন্য পরিমিত পানি ব্যবহারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

অজুর সময় যা মনে রাখবেন

  • অযথা ট্যাপ পুরোপুরি খুলে রাখবেন না; প্রয়োজনমতো পানি নিয়ে ট্যাপ বন্ধ করে দিন।
  • প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় ঘষে ঘষে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করুন, বিশেষ করে গোড়ালি ও কনুই।
  • সুন্নাহ অনুযায়ী প্রতিটি অঙ্গ সর্বোচ্চ তিনবার ধুয়ে অজু সম্পন্ন করুন।
  • মসজিদ বা মাদরাসার মতো ওয়াকফকৃত পানির ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশি সচেতন হোন।

কেন এই সচেতনতা জরুরি?

অজু কেবল বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার নাম নয়; এটি গুনাহ মাফেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এই ইবাদত পালনের সময় অপচয় করা, অঙ্গ শুকনো রেখে দেওয়া বা সুন্নাহর সীমা অতিক্রম করা- কোনোটিই কাম্য নয়। অল্প পানিতে সুন্দর ও পরিপূর্ণ অজু করা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ। একজন মুমিনের উচিত সেই সুন্নাহ অনুসরণ করে ইবাদতকে পরিপূর্ণ করা।

তথ্যসূত্র: সুরা আনআম: ১৪১; সহিহ বুখারি: ১৬৩; সহিহ মুসলিম: ২৪১, ৩২৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৫; জাদুল মাআদ

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us