ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বিলোপ করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। সেই লক্ষ্যেই জুলাইয়ের এক দফা ঘোষণা করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ছিল শিক্ষার্থীদের একটি ন্যায্য আন্দোলন। কিন্তু সেই দাবিও যখন মেনে নেওয়া হয়নি এবং আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল, তখন শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সেখান থেকেই আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।
তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার পর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মাদরাসার শিক্ষার্থী, শ্রমিক, পেশাজীবী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। রেমিট্যান্স শাটডাউনের মতো কর্মসূচিও সে সময় প্রবাসীরা সমর্থন করেছিলেন। এভাবেই জুলাই একটি সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, জুলাই আমাদের কাছে শুধুমাত্র হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর উপলক্ষ্য ছিল না। বরং হাসিনা ও আওয়ামী লীগ যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, সেই ব্যবস্থা থেকে মুক্তি অর্জনই ছিল আমাদের লক্ষ্য। জুলাই আমাদের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পথ দেখিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়েছে এবং জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে সেই জনমতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
আখতার হোসেন আরও বলেন, আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়টি ইতিবাচক। তবে জনগণ এর আগেই গণভোটের মাধ্যমে এ বিষয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছে। জনগণের রায়কে আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা দেশের জন্য শুভ হবে না। নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন জুলাই গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করেছে, তা বাস্তবায়নে জনগণের রায়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সেই লক্ষ্যেই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।