ছবি: সংগৃহীত
ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে জুলাইয়ের বিরোধী শক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারা দেশের বাইরে অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে নতুন বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে। তাই জুলাইয়ের শক্তিকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা সবাই এখনো জুলাইয়ের শপথের মধ্যেই আছি। জুলাইয়ের যে লক্ষ্য ছিল, তার প্রাথমিক বাস্তবায়ন জুলাই-আগস্টেই হয়েছে। পরবর্তীতে আরও কাজ হয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে জুলাইয়ের শক্তিগুলোই সেই লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের শত্রুরা কিন্তু বসে নেই। তারা যে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, সেই অর্থ ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচারণা চালাচ্ছে। দেশেও তাদের অনুসারীরা নতুন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে। তাই কারা জুলাইয়ের সময় মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, কারা বাংলাদেশকে দাসত্বে রাখতে চেয়েছিল, সেই স্মৃতি আমাদের কখনো ভুলে গেলে চলবে না।’
ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পৃথিবীর যেখানেই অবস্থান হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য একটি শক্তিশালী তদন্ত সংস্থা গঠনের পাশাপাশি বিদেশে থাকা দূতাবাসগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, যারা শহীদ আনাস, জাবের, ফাইয়াজ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, আবু সাঈদসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বিচার চাই। ১০ বছর, ২০ বছর কিংবা ৩০ বছর সময় লাগলেও তাদের আইনের মুখোমুখি করতে হবে।’
শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো হত্যাকারী বা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হতে না পারে। জুলাই আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে আত্মমর্যাদা ফিরে পেতে হয়।’
অনুষ্ঠানে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি প্রমুখ।