ঢাকা
০৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রধানমন্ত্রীর এক সিদ্ধান্তেই বাঁচল কোটি টাকা জুলাই পদযাত্রার প্রথম দিনে গাজীপুরে যাচ্ছেন নাহিদ ইসলাম সারা দেশে আ.লীগের অফিসগুলো আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম: রাকিব ট্রাম্প-পুতিনের দীর্ঘ ফোনালাপ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব ভবিষ্যতে জিডিপিতে বিসিক খাতের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী নির্ভরযোগ্য ডাটা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি : অর্থমন্ত্রী ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ১৮ বছরের নির্যাতনের পর অস্থিরতা থাকতেই পারে, তবে ধৈর্য ধরতে হবে : দুদু বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
Advertise with us

সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জনগণের গৌরবের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬   ২৮ বার পঠিত
সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জনগণের গৌরবের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছে। একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের  আবারো অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।

রবিবার প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট-পিজিআর এর ৫১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হতে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যরাই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃংখলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যরা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে’র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, পিজিআরে’র সদস্যরা যেহেতু সবাই সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য ফলে আপনারাও সবাই বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত, যা আপনাদের এই রেজিমেন্টকে আরো দক্ষ আত্মবিশ্বাসী, এবং গৌরবান্বিত করেছে বলে আমি মনে করি। একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনী দেশ এবং জনগণের সাহস এবং গৌরবের প্রতীক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আমি এর আগে এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমার একটি উপলব্ধির কথা শেয়ার করেছিলাম যেহেতু আপনারাও রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেহেতু আপনাদের জন্যও কথাটি প্রযোজ্য বলে আমি মনে করি। সেটি হলো একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়ই জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়। ফলে সেই সকল অনুষ্ঠানে আপনাদেরকেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই কিছুটা জটিলতাপূর্ণ। এসব কর্মসূচির পালনের সময় একদিকে সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই আপনাদেরকে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। তবে আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।

তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা এবং নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকেও সরকার আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে,   তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির সম্মুখীন হবে না ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করব, পিজিআরের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি  প্রতিটি সদস্যের সাহস-সততা-বিশ্বস্ততা-সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব – নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‌‘চেইন অফ কমান্ড’ অনুসরণ এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031