ঢাকা
০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
Advertise with us

পাকস্থলীকে কেন মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক বলা হয়?

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬   ১১ বার পঠিত
পাকস্থলীকে কেন মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক বলা হয়?

পাকস্থলীকে কেন মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক বলা হয়?  ছবি: সংগৃহীত

গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের আগে পেটে অস্বস্তি কিংবা পরীক্ষার আগে বমি বমি ভাব এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি আমাদের সবারই হয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, কেন এমন হয়? এর কারণ খুঁজে পেয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এগুলো শুধুই মনের ভুল নয়; এর পেছনে রয়েছে শক্ত জৈবিক ভিত্তি।

মানুষের পাকস্থলী বা অন্ত্রের কাজ শুধু খাবার হজম করা নয়, বরং এটিকে শরীরের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ বলে থাকেন চিকিৎসকরা।

2201-1

কেন এটি দ্বিতীয় মস্তিষ্ক?

আমাদের পরিপাকতন্ত্রে কোটি কোটি স্নায়ুকোষ বা নিউরন রয়েছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে যা ‘এন্টেরিক নার্ভাস সিস্টেম’ নামে পরিচিত। এই সিস্টেমটি মস্তিষ্কের মতো জটিল চিন্তা করতে না পারলেও সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। এটি স্নায়ু, হরমোন ও অণুজীবের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আমাদের মূল মস্তিষ্কের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে

মানুষের শরীরে মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোন ‘সেরোটোনিন’। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সেরোটোনিনের প্রায় ৯৫ শতাংশই উৎপন্ন হয় অন্ত্রে। ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য খারাপ হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যেও।

gut

অণুজীবের সঙ্গে মনের সম্পর্ক

চিকিৎসকদের মতে, আমাদের অন্ত্রে ট্রিলিয়ন অণুজীব থাকে, যা খাবার হজম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে আমরা যখন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকি, মস্তিষ্ক তখন অন্ত্রে বিশেষ সংকেত পাঠায়। এর ফলে পেটে খিঁচুনি বা ফোলাভাব তৈরি হয়।

আবার অন্ত্রের অণুজীবের ভারসাম্য নষ্ট হলে তা মানুষের মেজাজ ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমনকি এই অণুজীবের কারণেই হুট করে নির্দিষ্ট কোনো খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ফুড ক্রেভিং’ হতে পারে।

gut2

অন্ত্র সুস্থ রাখার সহজ উপায়

আপনার অন্ত্র ভালো রাখতে কোনো দামি ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন নেই। লাইফস্টাইলে ছোট কিছু অভ্যাস গড়ে তোলাই এর জন্য যথেষ্ট-

নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে হবে। খাবারের সময় তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া উচিত।

মানসিক চাপ কমানো: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হজমের সমস্যা বাড়ায়। অন্যদিকে পেটের সমস্যা আবার মানসিক চাপ তৈরি করে। তাই মন শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।

gut_pic

ফাইবার ও দেশীয় প্রবায়োটিক: খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ বা ফাইবার রাখুন এবং প্রচুর পানি পান করুন। তবে সতর্কতার বিষয় হলো, খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ করে আঁশযুক্ত খাবার বেশি রাখলে পেট ফাঁপা হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। আমাদের হাতের কাছে থাকা পান্তা ভাত, টক দই বা ইডলির মতো গাঁজানো খাবারগুলো প্রবায়োটিকের চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস।

হালকা হাঁটাচলা: ভারী খাবার খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা হজমে সাহায্য করে এবং পেটের ফোলাভাব কমায়।

নিয়মিত অভ্যাস, সঠিক ভারসাম্য ও একটু যত্নই পারে আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে ভালো রাখতে। অন্ত্র সুস্থ থাকলে হজমশক্তি যেমন উন্নত হয়, তেমনি মনও থাকে ফুরফুরে।

সূএ : টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031