ঢাকা
০৬ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ: প্রধানমন্ত্রী আর্থিক খাত রাজনীতিমুক্ত করার চেষ্টা চলছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী কুশল বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী: ‘তোমাদের ফুটবল আছে?’ ‘নেক্সট জুম্মাবার ফুটবল দেবো, ইনশাআল্লাহ।’ যুদ্ধ যখন অনিবার্য, মেজর জিয়া তখন যুদ্ধের ডাক দিলেন: জহির উদ্দিন স্বপন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির হিসেবে শপথ নিলেন সেলিম উদ্দিন ডিসেম্বর আসবে-যাবে, কিন্তু বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে দেওয়া হবে না : নুর আওয়ামী লীগ মাটির নিচে চলে গেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকু যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই আজ শিবিরের প্রকাশনা উৎসব : ফরহাদ আমার মতো লক্ষ লক্ষ নারীর রাজনীতিতে আদর্শ বেগম খালেদা জিয়া : এনসিপি নেত্রী মিতু রাজনৈতিক আশ্রয় ছাড়া মাদক কারবার সম্ভব নয়: ইশরাক হোসেন
Advertise with us

যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই আজ শিবিরের প্রকাশনা উৎসব : ফরহাদ

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬   ১৯ বার পঠিত
যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই আজ শিবিরের প্রকাশনা উৎসব : ফরহাদ

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঐতিহাসিক বটতলায় দাঁড়িয়ে একসময় কোরআন তিলাওয়াত করলে শোকজ করা হতো, মসজিদের ইমাম-কারির চাকরি চলে যেত কিংবা রমজানকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান করলে বিচারের মুখোমুখি হতে হতো—আজ সেখানেই প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা উৎসব। ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার এই মুক্ত পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এসএম ফরহাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আমরা কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করতে চাই। যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াত করলে শোকজ নোটিশ আসত, ভিসি অফিস মসজিদের তারাবির নামাজের কারি সাহেবের চাকরি চলে যেত, রমজানকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান বা কোনো ইসলামী সংস্কৃতি তুলে ধরলে শিক্ষার্থীদের বিচারের মুখোমুখি করা হতো—আজ সেই বটতলাতেই ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশনা উৎসবের সাক্ষী হচ্ছে। এখানে ইসলামের ইতিহাস, মুসলিম ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে ফরহাদ বলেন, ‘আজকে আমরা বলতে পারি, ২৪-এর শহীদদের রক্তের বিনিময়ে, আহতদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ এখানে কাউকে ইসলামের কালচার প্র্যাকটিস করতে গিয়ে শোকজের মুখোমুখি হতে হয় না। কোনো হাফেজকে ভয় পেতে হয় না যে তিলাওয়াত করলে চাকরি যাবে; কোনো শিক্ষার্থীকে আতঙ্কিত হতে হয় না যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হবে।’

বিগত দেড় দশকের চরম দমন-পীড়ন ও মিথ্যা মামলার বর্ণনা দিয়ে শিবির নেতা বলেন, ‘গত ১৫ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে শিবিরের কোনো প্রকাশনা হাতে পেলে শিক্ষার্থীদের চরম নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হতো। কোনো ডায়েরি বা ক্যালেন্ডার পেলে তাকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা দেওয়া হতো। এমনকি মেস থেকে চোখ বেঁধে শিক্ষার্থীদের ধরে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে দিয়ে বলা হতো—তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, তারা পুলিশের ওপর গুলি চালিয়েছে। অথচ বাস্তবে তাদের সামনে জঙ্গি উপাদান হিসেবে সাজিয়ে রাখা হতো আমাদের ডায়েরি, ক্যালেন্ডার ও ম্যাগাজিন।

তিনি আরো বলেন, ‘আজ এই ঐতিহাসিক বটতলায় দাঁড়িয়ে পুরো জাতির সামনে আমরা আমাদের সেই সব প্রকাশনা তুলে ধরেছি। দেশবাসী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা আজ এসে নিজেরাই পর্যবেক্ষণ ও বিচার করুক—কী উপাদান আসলে বিগত ফ্যাসিবাদের জন্য ভয়ের কারণ ছিল? মূলত আমরা ইসলামের কথা বলতাম, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতাম। আমরা চাইতাম তরুণ প্রজন্ম একটি আদর্শ ও আত্মমর্যাদাশীল প্রজন্ম হিসেবে গড়ে উঠুক এবং আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় প্রস্তুত হোক। আর এই সত্যের বাণীকেই তারা ভয় পেত।

সবশেষে তিনি বলেন, শত জুলুম ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও কোনো বছরই শিবিরের প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ থাকেনি। একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ, সমাজের কাঠামোগত সংস্কার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা জাগ্রত রাখার এই লড়াই ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us