ঢাকা
০৬ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
রাজনৈতিক আশ্রয় ছাড়া মাদক কারবার সম্ভব নয়: ইশরাক হোসেন দাবি আদায়ের আন্দোলন আর কারখানা ভাঙচুর-আগুন দেওয়া ভিন্ন বিষয়: রিজভী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম ফ্যাসিস্ট আ.লীগের আর এ দেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সব ম্যাচ দেখা যাবে টি স্পোর্টস-এ শর্টকাটে টাকা ইনকামের পথ খুঁজলে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না: আইনমন্ত্রী অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে রান্না খাবারে মিলল বিষাক্ত সিসা ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম নয়, একটি ভাইরাস : শফিকুর রহমান বাবুনগর মাদ্রাসায় যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আদায় করবেন জুমার নামাজ সবজিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি, মাছ-মাংসে কমছে না খরচ
Advertise with us

এবার ‌‘ক্ষতি পোষাতে’ কিমকে কাছে টানবেন ট্রাম্প?

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬   ২২ বার পঠিত
এবার ‌‘ক্ষতি পোষাতে’ কিমকে কাছে টানবেন ট্রাম্প?

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর নিজের মেয়াদকালের শেষ দুই বছরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরণের সাফল্য তুলে ধরতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে পারেন বলে আভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তবে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে পুনঃরায় আলোচনার টেবিলে ফেরাতে ট্রাম্পকে যদি বড় ধরণের কোনো ছাড় বা সুবিধা দিতে হয়, সেক্ষেত্রে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে মারাত্মক টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সিউল, টোকিও ও ওয়াশিংটনভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়াঙ্ক বিশ্লেষকরা রয়টার্সকে বলেছেন, গার্হস্থ্য রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়নে কংগ্রেসে নানা বাধার সম্মুখীন হয়ে ট্রাম্প এখন মূলত বৈশ্বিক পররাষ্ট্রে নজর দিতে পারেন, যাতে নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে শক্তিশালী করা যায়। ইউক্রেন ও ইরানে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগগুলো এখনো কোনো ইতিবাচক পরিণতি না পাওয়ায়, ট্রাম্পের সম্ভাব্য নজর এখন এশিয়ার দিকে, কারণ সেখানে কূটনৈতিকভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সিউলে অবস্থিত কোরিয়া ন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক বান কিল-জু এ বিষয়ে মতামত প্রকাশ করে বলেন, বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিকূলতার মুখে পড়লে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর কূটনৈতিক সাফল্য প্রমাণের জন্য জোর চেষ্টা চালাবেন, এটাই স্বাভাবিক। ট্রাম্প নিশ্চিতভাবেই চাইবেন ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেন তাঁর কোনো যোগ্য উত্তরসূরি জয়ী হতে পারেন, আর সেই রাজনৈতিক এজেন্ডারই অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আপাতত এ ধরনের উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার বা টেবিলে বসার জোরালো কোনো কারণ নেই বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ট্রাম্পের কূটনৈতিক পরিকল্পনা প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি ইমেইল বার্তার মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমেরিকান শক্তি পুনরুদ্ধার করেছেন এবং বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করেছেন। তিনি আরো যুক্ত করেন, তার পররাষ্ট্র নীতি কখনোই রাজনীতির নিয়ম মানেনি। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি সব সময় আমেরিকান জনগণ এবং জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ স্বার্থ বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য, নিজের প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার পর ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার সাক্ষাৎ করেছিলেন। তবে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত তাদের বহুল আলোচিত শীর্ষ সম্মেলনটি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পেরে অকার্যকরভাবে শেষ হয়।

সাত বছর পর, বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও ঝুঁকির মাত্রা আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ও কঠিন। বর্তমানে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রাগার ব্যাপক সম্প্রসারণ করেছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে মজবুত অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বসার ক্ষেত্রে কিম জং উনের তাড়াহুড়ো করার কোনো তাগিদ নেই, যা মূলত ট্রাম্পকে আরো বড় ছাড় বা সুবিধা দেওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ব্যক্তিগত পর্যায়ে ট্রাম্প প্রতিনিয়ত কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশংসা করে আসছেন। তিনি কিমকে একজন দারুণ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে খুব চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে।

তবে মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক কর্তাব্যক্তিদের মতে, চলতি বছরে দুই নেতার বৈঠকের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। চলতি মাসে চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনের আগে পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়াশব্দ পায়নি ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সংলাপ শান্তির পথ হতে পারে, তবে পিয়ংইয়ং বর্তমানে আলোচনার কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছে না। তিনি ওয়াশিংটনের শত্রুতাপূর্ণ নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে গত সপ্তাহে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বিন্যান্স থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভার্চুয়াল সম্পত্তি চুরির বিষয়ে মার্কিন অভিযোগকে তিনি পুরোপুরি মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কিম জং উন অবশ্য আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন যদি পারমাণবিক অস্ত্র বর্জনের জন্য চাপ দেওয়া বন্ধ করে, তবেই কেবল তিনি পুনরায় আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান কখনোই পারমাণবিক ছাড় দেওয়ার এই শর্ত মেনে নেবে না।

সিউলের এহওয়া ওম্যান্স ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ের অধ্যাপক লিফ-ইরিক ইজলি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তি হিসেবে রেখে কোনো শীর্ষ সম্মেলন করা হলে তা অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে। ফলে ওয়াশিংটন, সিউল ও টোকিওর মধ্যে গুরুতর নীতিগত টানাপোড়েন ও বিরোধ তৈরি হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাপানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বেইজিং ও মস্কোর পরোক্ষ সম্মতিতে ট্রাম্প যদি সরাসরি কিমের সঙ্গে রফাদফা করতে যান, তবে সিউল ও টোকিও কোণঠাসা হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। তিনি বলেন, জাপানি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের প্রচেষ্টার সীমানা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত, কারণ ট্রাম্প হয়তো পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মূল দাবিটিই ছেড়ে দিতে পারেন।

ট্রাম্প ইতিমধ্যেই উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক শক্তি সম্পন্ন দেশ হিসেবে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন। যদিও পিয়ংইয়ংয়ের কাছে থাকা একাধিক পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র ও পরমাণু জ্বালানির বিশাল স্টক থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা কৌশলগত কারণে কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি দেয়নি।

জাপানের সোফিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কাজুহিরো মায়েশিমা বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া আলোচনার মাধ্যমে ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অবস্থান মেনে নেয়, তবে এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশ নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি হবে অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি দুই বছরে এই গুরুতর পরিস্থিতির উদ্ভাব হতে পারে।

প্রথম মেয়াদের তুলনায় বর্তমানে কিমের অস্ত্রাগার অনেক বেশি আধুনিক ও ধ্বংসাত্মক। তার কাছে বর্তমানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক গ্লাইড যান, অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং উন্নতমানের ড্রোন বহর বিদ্যমান। ফলে ট্রাম্প যদি সত্যিই কিমকে টেবিলে ফেরাতে চান, তবে তাকে কেবল আংশিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ওঠানোর চেয়েও বড় কোনো বৈশ্বিক ছাড় দিতে হবে।

তবে সিউলের ইয়নসেই ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং রাষ্ট্রপতির সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুন চুং-ইন মনে করেন, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেস এবং ট্রাম্পের হাতে থাকা স্বল্প মেয়াদের কারণে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন হবে। মুন আরো যোগ করেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব হিসাব-নিকাশ। উত্তর কোরিয়া যদি মনে করে যে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের শেষ দিকে এসে দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাবেন না, তাহলে কিম জং উনের আলোচনায় বসার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা লাভ নেই। সূত্র: রয়টার্স

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us