ঢাকা
০৬ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
রাজনৈতিক আশ্রয় ছাড়া মাদক কারবার সম্ভব নয়: ইশরাক হোসেন দাবি আদায়ের আন্দোলন আর কারখানা ভাঙচুর-আগুন দেওয়া ভিন্ন বিষয়: রিজভী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম ফ্যাসিস্ট আ.লীগের আর এ দেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সব ম্যাচ দেখা যাবে টি স্পোর্টস-এ শর্টকাটে টাকা ইনকামের পথ খুঁজলে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না: আইনমন্ত্রী অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে রান্না খাবারে মিলল বিষাক্ত সিসা ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম নয়, একটি ভাইরাস : শফিকুর রহমান বাবুনগর মাদ্রাসায় যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আদায় করবেন জুমার নামাজ সবজিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি, মাছ-মাংসে কমছে না খরচ
Advertise with us

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ঝাঁপ: ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান কারো স্বস্তি নেই

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬   ২২ বার পঠিত
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ঝাঁপ: ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান কারো স্বস্তি নেই

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সমাপ্ত হওয়ার পরপরই ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তাদের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থিতার তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে দলটির সবচেয়ে অনিশ্চিত লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউস পুনরুদ্ধারের কৌশলে দলের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক বিভাজন ও নীতিগত বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

বর্তমানে ২০২৮ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোনো একক পছন্দের প্রার্থী বা একক ফেভারিট মুখ উঠে আসেনি, ফলে সম্ভাব্য লড়াইয়ে ডজনখানেক প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বিপরীতে রিপাবলিকান পার্টিতে সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট কিছু প্রার্থীর নাম আলোচিত হচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সংবিধান অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে তৃতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না থাকায় তার স্থলাভিষিক্ত করতেই এই লড়াই প্রস্তুত হচ্ছে।

বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর এবং মার্কিন সিনেটররা বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই অনুদান সংগ্রহ, গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভিক প্রাইমারি রাজ্যগুলো সফর এবং নিজেদের জাতীয় পরিচিতি বাড়াতে ব্যস্ত রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ায় হোয়াইট হাউস দখলের এই সুদূরপ্রসারী লড়াই এবার পূর্ণ গতি লাভ করবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক সাফল্য এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর এজেন্ডার ওপর ভোটারদের বড় ধরনের অনাস্থা প্রকাশের ফলে দেশ পরিচালনাসংক্রান্ত জন অসন্তোষকে কীভাবে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে উভয় দলেই আলোচনার ঝড় উঠেছে। তবে এই অভূতপূর্ব বিজয়ের পরও স্বাস্থ্যসেবা, কর নীতি, পুলিশিং ব্যবস্থা এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দল মধ্যপন্থী অবস্থান নেবে নাকি আরও বামপন্থী বা প্রগতিশীল ধারায় এগোবে; তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে তীব্র মতভেদ রয়েই গেছে।

অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্পের নীতি থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা, কারণ সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলে তার নীতির বিরুদ্ধে একপ্রকার গণরায় দেখা গেছে। রিপাবলিকানদের ট্রাম্পের অনুগত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনকে ক্ষুণ্ন না করেই দলের বাইরে সাধারণ সাধারণ জনভিত্তি সম্প্রসারণ করতে হবে। তবে বিগত এক দশক ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আধিপত্য বিস্তার করে থাকা ট্রাম্প সহজে কেন্দ্রীয় লাইমলাইট ছাড়তে রাজি নাও হতে পারেন, যা তার অনুসারীদের মধ্যে তাঁর অব্যাহত প্রভাবের কারণে নতুন রিপাবলিকান নেতৃত্বের পথকে আরও জটিল করে তুলবে।

ডেমোক্র্যাটিক কৌশলবিদ ডগ সোসনিক এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আগামী ২০২৮ সালের লড়াই শুরুর মুখে প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী; উভয় গোষ্ঠীই সদ্যসমাপ্ত ফলাফলে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের যৌক্তিকতা খুঁজে পাবে, যা অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে আরও তীব্র করবে। প্রগতিশীলদের বড় ধরনের জয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, মিশিগানের সেনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সাইয়েদ সহজ জয় পেয়ে প্রথম মুসলিম মার্কিন সেনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন, যা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেট। সোসনিক বলেন, মঙ্গলবারের ফলাফল থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সব ধ্রুবক বা পক্ষই উৎসাহের রসদ খুঁজে পাচ্ছে, তাই দলের ভেতরের পার্থক্যগুলোকে কোনো পক্ষই আটকে রাখতে পারবে না বা রাখা উচিতও নয়।

দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে খোলাখুলি ভেবেছেন বা একেবারে নাকচ করেননি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের চূড়ান্ত সপ্তাহে তারা নেভাদা, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো প্রাথমিক ভোটকেন্দ্রিক রাজ্যগুলোতে সহকর্মীদের হয়ে জোর প্রচারণা চালিয়েছেন। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন ২০২৪ সালে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হওয়া সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম, কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার, সাবেক পরিবহন মন্ত্রী পিট বুটিজেজ এবং প্রগতিশীলদের অন্যতম পরিচিত মুখ কংগ্রেস সদস্য অ্যালেক্সান্ড্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ। তবে রয়টার্স যখন এই শীর্ষ নয়জন সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন কেউই ২০২৮ সালের লড়াইতে নামার চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।

নির্বাচনের মাত্র নয় দিন পর, ডেনভারে ‘মেজরিটি ডেমোক্র্যাটস’ আয়োজিত এক সম্মেলনে পিট বুটিজেজ ও ক্যালিফোর্নিয়ার প্রগতিশীল কংগ্রেস সদস্য রো খন্নাসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সমবেত হতে যাচ্ছেন। মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট ও ধনকুবের স্টিভ ম্যান্ডেলের আর্থিক সহযোগিতায় চালিত এই গ্রুপটি মূলত অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব ও আরও মধ্যপন্থী দলের প্ল্যাটফর্মের পক্ষে কাজ করে। এই গ্রুপের প্রধান, ম্যাসেচুসেটসের প্রতিনিধি জেক অকিনক্লস জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগেই দলটি কেবল ট্রাম্প-বিরোধী অবস্থানের ওপর নির্ভর না করে দলের ইতিবাচক উদ্দেশ্য ও এজেন্ডা কী হওয়া উচিত তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

ডেমোক্র্যাটিক কৌশলবিদ স্কট ফারসনের মতে, প্রাইমারি নির্বাচনে অভূতপূর্ব সংখ্যক প্রার্থী অংশ নিতে পারেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অন্তত ৩০ জন ডেমোক্র্যাট তাঁদের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করছেন যে তাঁদের এই দৌড়ে নামা উচিত কি না।

এর বিপরীতে রিপাবলিকান শিবিরের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সতর্ক ভূমিকা পালন করছেন এবং ট্রাম্পের ছায়াতলে থেকে তাঁর প্রতি আনুগত প্রকাশ করে চলছেন। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতির সার্বিক ব্যবস্থাপনা, বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতি ও সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশের পর এই রাজনৈতিক অবস্থানে বদল আসতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ম্যাট ডোল মনে করেন, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের জন্য পরিস্থিতি সবচাইতে কঠিন। পদাধিকারবলে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত সমর্থন ও ডিফেন্ড করার বাধ্যবাধকতা থাকায় মন্ত্রীসভার অন্যান্য সদস্যদের মতো পদত্যাগ করে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত থেকে দূরে সরার স্বাধীনতা ভ্যান্সের নেই। তা সত্ত্বেও, গত বুধবার ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প কর্তৃক শুরু করা ইরান যুদ্ধ যা মার্কিন জনগণের কাছে চরম অপ্রিয় ছিল, তা রিপাবলিকানদের এই পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। অবশ্য এই বক্তব্য ট্রাম্পের থেকে বড় কোনো বিচ্ছিন্নতা নয়, কারণ ট্রাম্প নিজেও আগের রাতে একই ধরনের পরাজয় ও পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছিলেন।

রিপাবলিকান দল থেকে যারাই নেতৃত্বের শীর্ষভাগে আসুক না কেন, তাঁদের ট্রাম্পের মাগা সমর্থক ভিত্তিকে সন্তুষ্ট রাখার পাশাপাশি ২০২৪ সালের বিজয়ী বিশাল রাজনৈতিক জোটকে পুনর্গঠন করতে হবে। কিন্তু নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা গেছে যে তরুণ ভোটার, হিস্পানিক ও অশ্বেতাঙ্গ পুরুষদের একটি বড় অংশ এবার রিপাবলিকানদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। পারিবারিক কারণ উল্লেখ করে ভ্যান্স অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাও করতে পারেন, অন্যদিকে মার্কো রুবিও এই মুহূর্তে লড়াইয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তবে ২০২৪ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়াই করে হেরে যাওয়া ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসেন্টিস পুনরায় নির্বাচনে নামার সম্ভাবনা নাকচ করেননি। এছাড়াও রিপাবলিকান প্রার্থীর সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে আরকানসাসের গভর্নর সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্স এবং টেক্সাসের সেনেটর টেড ক্রুজ।

সূত্র: ডন

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us