ঢাকা
১৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
সিনেমা হলের জন্য হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চান তথ্য প্রতিমন্ত্রী মিরপুরে শামীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক এমপি হাসনাতের ছেলে মঈনউদ্দীন নির্লজ্জতার এক নতুন উদাহরণ দেখা গেল চুয়েটে: সাদিক কায়েমের ফেসবুক পোস্ট পাগলা মসজিদে ৬ বছর ধরে জমা পড়া স্বর্ণ-রুপার ওজন মাপছে প্রশাসন বিরোধীদের সঙ্গে মোদী সরকারের ২০০ কর্মকর্তার যোগাযোগ, দাবি রাহুলের শাহজাহানপুরে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন জিএম কাদেরকে গ্রেফতারের দাবিতে বাসার সামনে মিছিল, হামলার অভিযোগ ‘দুর্গাপূজা ঘিরে নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রস্তুত বিএনপি’ নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে উন্নতি সম্ভব নয়: রাষ্ট্রপতি ৫ ধাপে হবে ইউপি নির্বাচন, প্রথমটি ২১ জানুয়ারি
Advertise with us

‘নারীর ক্ষমতায়নে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে’

ডেস্ক রিপোর্ট
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬   ১৬ বার পঠিত
‘নারীর ক্ষমতায়নে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে’

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগদক্ষতা, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।

সোমবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক পেশাগত ও জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই ছিল এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদের সমাজে একজন নারীকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য তাদের পরিবারকে সম্পৃক্ত করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারলে নারীর ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ আরও সুগম হবে।

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে কেবল একটি সাধারণ ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না। ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন, শিক্ষাগত ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর কর্মসূচি তৈরি করতে হবে। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার আগে তার আত্মবিশ্বাস, নিজের অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাও জরুরি।

যোগাযোগদক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে প্রকাশ করতে পারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা। একজন নারী তার কাজ, পণ্য বা সেবার গুণাগুণ অন্যের কাছে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারলে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ বাড়ে। তাই নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিতে যোগাযোগদক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ, সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সক্ষম হয়ে উঠবেন।

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থান ও আয়মূলক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ তাদের পরিবার ও সমাজে অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলোকে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে সমন্বিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীদের জন্য উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাদের বাস্তব প্রয়োজন ও সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া কিশোরী ও তরুণীদের জন্য এমন কর্মসূচি তৈরি করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সহযোগিতাও পান। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us