ঢাকা
০৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবরার ফাহাদের নামে কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি পরিবারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ কোরআন শিক্ষা উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার: রাষ্ট্রপতি আবরার ফাহাদ হত্যার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ১২ অক্টোবর ইউপি নির্বাচনের সময় জানানো হবে : ইসি সানাউল্লাহ মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি এবার ঢাকা-খুলনা লংমার্চে ১৫০ গাড়ি পাঠাবে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক আমরা ভারতবিরোধী নই, আধিপত্যবিরোধী: আসিফ মাহমুদ আ.লীগ ভারতবিরোধী কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখত: এমপি আখতার হোসেন
Advertise with us

আ.লীগ ভারতবিরোধী কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখত: এমপি আখতার হোসেন

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬   ২২ বার পঠিত
আ.লীগ ভারতবিরোধী কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখত: এমপি আখতার হোসেন

ছবি: সংগৃহীত

তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দিল্লির এক্সটেনশন হিসেবে বাংলাদেশকে শাসন করছিল এবং দেশের স্বার্থের বিরোধিতা বা ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে দেখত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘আবরার ফাহাদ: দিল্লি আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আইয়ামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক, চিন্তক ও অ্যাক্টিভিস্ট মুহাম্মদ সজল এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসিসর চৌধুরী।

আখতার হোসেন বলেন, ‘আবরার ফাহাদ ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা এবং বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থের পক্ষে ফেসবুকে যৌক্তিক কথা লিখেছিলেন বলেই হত্যার শিকার হয়েছিলেন। আমরা সেই পানির হিস্যা এখনও বুঝে পাইনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া না হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকারের উচিত ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করে চুক্তির সঠিক নবায়ন করা।’

সীমান্তে হত্যা ও অবৈধ পুশ-ইন বন্ধের বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘সীমান্তে অন্যায় গুলি ও হত্যা বন্ধের জন্য দিল্লির রাজনৈতিক মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরি।’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের অনেক বাংলাভাষী মুসলমানকে নাগরিকত্বহীন করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘তারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বা ভারতবিরোধী নন, বরং তারা আধিপত্যবাদবিরোধী।’ দ্বিপক্ষীয় যেকোনো চুক্তি বা সম্পর্কে দুই দেশের জন্য পারস্পরিক সুবিধা বা ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি থাকলে এবং দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকলে তাতে আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতি কেবল মুখে সীমাবদ্ধ না রেখে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যথায় পরবর্তীতে তা সিকিমের রাজতন্ত্রের পতনের মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

লেখক, চিন্তক ও অ্যাক্টিভিস্ট মুহাম্মদ সজল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লেগেসি হলো, ভারতের বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনো কথা বলে, তাহলে তাকে প্রতিহত করা। এটা কয়েকটা পর্যায়ে হতো। প্রথমে তাকে মুসলমান বা পাকিস্তানপন্থী ভাবা হতো। এর পরে তাকে জামায়াত-শিবির হিসেবে আইডেন্টিফাই করে বা উগ্রবাদী ট্যাগ দিয়ে তাকে হত্যাযোগ্য করা হতো।’ এর পেছনে জামায়াত-শিবিরের গুপ্ত রাজনীতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসিসর চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যখন আজকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলি, তখন আমরা এটা বলি না যে ভারতের সবকিছুর দিক থেকে আমরা মুখ ফিরিয়ে নেব। আমরা চাই, আমাদের সবকিছু হবে সমান সমান। ভারত আমাদের যেন কিছু চাপিয়ে দিতে না পারে, সেটা আমরা চাই। আমরা চাই, আমাদের উন্মুক্ত সমুদ্রসীমা দিয়ে এশিয়ার সব দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করব।’

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us