ঢাকা
২৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবো: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে বহু প্রাণহানি: রাষ্ট্রপতির গভীর শোক ১৭ বছর গণতন্ত্রের নামে স্বৈরশাসন চলেছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ‘মক্কা প্যাক্টে’ বাংলাদেশ যোগ দিলে কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই: জামায়াত আমির কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে ছাত্রদলের শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির নেতৃত্বাধীন ইসির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জুলাই হত্যাযজ্ঞ : সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ১০ জন ট্রাইব্যুনালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক শুরু
Advertise with us

সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬   ২৫ বার পঠিত
সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে চীনের কোম্পানি সিএমইসি এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পটি থেকে আগামী দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

এ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীন যাবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া আমিনবাজারের ল্যান্ডফিল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও চীনের সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, হাটবাজার, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহার ও সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, দিনের বেলা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং রাতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগে চীনের বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, শুধু সৌরবিদ্যুৎ নয়, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চীনের পাওয়ারচায়না কোম্পানিকে এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আমিনবাজারে ৪২ মেগাওয়াটের প্রকল্প নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পের চুক্তি এরইমধ্যে হয়েছে। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে। প্রকল্পটি ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসাবে ২০২৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

মীর শাহে আলম বলেন, এ প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট প্রায় ২১ টাকা ৭০ পয়সা। দাম তুলনামূলক বেশি হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুবিধা বিবেচনায় এটি লাভজনক হবে।

এছাড়া বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের সুযোগও থাকবে এবং ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ভাড়া দেবে। প্রকল্পে সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ লাগবে না বলেও জানান তিনি।

ঢাকার দাসেরকান্দি পয়োনিষ্কাশন শোধনাগার প্রকল্পে আরও বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির মাত্র ৩০ শতাংশ কার্যক্রম চালু হয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে চীন ঋণ বা অনুদানের মাধ্যমে অর্থায়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।

দাসেরকান্দি প্রকল্পে গুলশান, বারিধারা ও বনানীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পয়োনিষ্কাশন সংযোগ স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ জন্য সরকার প্রায় এক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। চীন বিনিয়োগ করলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর এ অর্থের চাপ কমবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

চীনা বিনিয়োগে ঢাকার তিন বস্তিতে আধুনিক আবাসন নির্মাণের প্রস্তাব

এদিকে, রাজধানীর গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার তিনটি বস্তি করাইল, সাততলা ও ভাষানটেক এ আধুনিক আবাসন নির্মাণে চীনের বিনিয়োগ চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে বস্তিবাসীদের বিনা ভাড়ায় বসবাসের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

চীন প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটিতে বিনিয়োগে সম্মতি জানিয়েছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, তিনটি বস্তিতে আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে চীনের কাছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। পুরো প্রকল্প একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগ করার কথা জানিয়েছে চীন।

তিনি বলেন, একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা সম্ভব নয় বলে চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে তাদের।এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডির) মাধ্যমে চীনের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই প্রস্তাব বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পে ২০তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ছোট ছোট ইউনিটে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে পুনর্বাসনের কথা ভাবা হচ্ছে। সেখানে বসবাসকারীদের তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কাউকে বঞ্চিত করা হবে না।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us