ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, গত পাঁচ দিন আগে সকালে যখন পত্রিকা পড়ছিলাম, প্রথম আলো পত্রিকা খুলেই বর্তমানে নির্বাচিত ভালুকার সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ও ২১ জুলাই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের প্রসঙ্গ তুলে সারজিস আলম বলেন, তিনি ওই নেতার ‘অপকর্মের একটি বিশাল ইতিহাস’ পড়েছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি যেসব কথা বলছেন, সেগুলো তাঁর নিজের কথা নয়; গণমাধ্যমে প্রমাণসহ প্রকাশিত তথ্য থেকেই তিনি এসব বলছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় এনসিপির ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচির এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ফখরউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা ও চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে একসময় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামলা করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা এবং জুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তোলেন সারজিস আলম। তাঁর দাবি, মতের অমিল হলেই ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির যেসব নেতাকর্মী ওই নেতার কথামতো চলেন না, তাঁদের ওপর হামলা করা হয়, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয় এবং রাজনীতি করতে দেওয়া হয় না।
ফখরউদ্দিন আহমেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভালুকা উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে অভিযোগ করেছেন বলেও দাবি করেন সারজিস আলম।
তিনি বলেন, ‘এই ধরনের একজন লোককে যখন এই ভালুকার মানুষ ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায়, তখন যারা তাঁকে ভোট দিয়ে পাঠায়, তাঁদের জন্য লজ্জা এবং ধিক্কার জানিয়ে আজকে আমি আমার কথা শুরু করছি। এই ভালুকার কোনো দিন পরিবর্তন হবে না, যত দিন আপনার ওই ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তন না হয়।’
বিএনপির নেতৃত্বের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ‘কিন্তু এই তারেক রহমানই তো আবার এই ধরনের লোকদেরকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাঁরা বহিষ্কারের নাটক করে আর মনোনয়ন দিয়ে সংসদে নেন।’
এ সময় বিএনপি নেতা ও বনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধেও ভালুকায় বন দখল ও লুটপাটে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন সারজিস আলম। তাঁকে ‘বনখেকো’ ও ‘জমিখেকো’ আখ্যা দেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু একা খায় না, তারেক রহমানকে ভাগ দিয়ে খায়। তা না হলে যেই লোক এই ভালুকার সবচেয়ে বেশি বন দখল করেছে, যেই লোক ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের বন দখল করে লুটপাট করছে, সেই লোককে তারেক রহমান কোনো দিন মন্ত্রী বানাইতে পারবে না।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, দল করা কোনো সমস্যা নয়। তবে দলের কেউ অন্যায়, চাঁদাবাজি বা লুটপাট করলে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই লড়াইটা বিএনপির বিরুদ্ধে না। এই লড়াইটা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অপকর্মের বিরুদ্ধে।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক করে সারজিস আলম বলেন, দলের কেউ অন্যায় করলে চুপ থাকা উচিত নয়। ‘যেদিন কথা বলা বন্ধ করবেন, সেদিন বিএনপি অটোমেটিকভাবেই আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় চাঁদাবাজ হওয়ার পথে আগানো শুরু করবে।
বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অন্যায়, চাঁদাবাজি বা লুটপাটে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, দলের কেউ অন্যায় করলে চুপ থাকা উচিত নয়। চুপ থাকলে বিএনপি আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় চাঁদাবাজ হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।