ছবি: সংগৃহীত
ভারতে শিক্ষার্থীদের দাবির সমর্থনে আয়োজিত আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে মুম্বাই পুলিশের হাতে বলিউড অভিনেত্রী আয়েশা খানের আটক হওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ার পর, শিক্ষার্থীদের সংহতি জানাতে গিয়ে মুম্বাইয়ের দাদারে পুলিশি হেনস্তার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী।
‘ধুরন্ধর’ ছবির ‘শারারাত’ গানখ্যাত এই অভিনেত্রী প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পান।
বুধবার বিকেলে মুম্বাইয়ের দাদারে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যান আয়েশা খান। তবে তার দাবি অনুযায়ী, মিছিল বা কোনো প্রতিবাদ শুরু করার আগেই পুলিশ তাকে ও তার সঙ্গীদের আটক করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আয়েশা জানান, তিনি তার দুই নারী বন্ধুর সঙ্গে রাস্তার একপাশে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এর আগেই তার ভাই এবং অন্য পুরুষ বন্ধুদের পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়। তারা কোনো স্লোগান দেননি বা কোনো প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেননি, তবু প্রায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য তাদের ঘিরে ধরে জোরপূর্বক ভ্যানে তুলে নেন।
আটকের পরপরই শেয়ার করা একাধিক ভিডিওতে আতঙ্কিত আয়েশাকে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো নিয়ম না ভেঙে এবং কোনো ধরনের স্লোগান না দিয়ে শুধু শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কেন তাকে আটক করা হলো? আটক করার পর তাকে ও তার বন্ধুদের ওরলি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি জানান, শহরের বিভিন্ন থানায় তাদের দলের সদস্যদের আলাদা করে ছড়িয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশ স্টেশনে তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হলেও আটক প্রক্রিয়ার সময় হেনস্তা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অবশেষে প্রায় তিন ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আপডেট জানান এই অভিনেত্রী। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি তার ভাইয়ের মুক্তির জন্য অন্য পুলিশ স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হন।
প্রসঙ্গত, সিজেপি আয়োজিত এই আন্দোলনের সমর্থনে দেশের একাধিক খ্যাতনামা তারকা সোচ্চার হয়েছেন। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের রাজপথে শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ থেকে শুরু করে রত্না পাঠক শাহ এবং নাসিরুদ্দিন শাহের মতো বর্ষীয়ান অভিনয়শিল্পীরাও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তুলছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস