ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রযুক্তির বিকাশের মাধ্যমে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বাড়লেও নিজেদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ভুলে যাওয়া যাবে না।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তরুণ প্রজন্মের কাছে দেশীয় ঐতিহ্য সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি, নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাব। আমাদের ঐতিহ্য কীভাবে আরও বেশি করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
সভায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে লালন উৎসব, নজরুলবর্ষ এবং আগামী ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবের নানা প্রস্তাবিত কর্মসূচি তুলে ধরা হয়। এসব আয়োজনের মধ্যে সার্কাস, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শোর পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে নানা বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শিশুদের কাছে সরাসরি বই পৌঁছে দেয়া যায় কি না, তা ভেবে দেখতে হবে।’ এ ছাড়া পাঠচক্র পরিচালনা ও বই পড়ার প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আরও সক্রিয় ও প্রাণবন্ত করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেশের অগ্রগতিতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি সবাই নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিই, তবে আমরা যে ধরনের সমৃদ্ধ দেশ দেখতে চাই, তার অনেকটাই বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের জন্য কাজ করার এই যে সুযোগ আমাদের এসেছে, তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে।’
সভায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।