ঢাকা
২১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
যারা বাংলাদেশকে ধারণ করে না, তাদের মাধ্যমেই বড় বড় দুর্নীতি হয়: সাদিক কায়েম মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পর তাসনিম জারার দীর্ঘ পোস্ট রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল ভারত সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের: জামায়াত আমির স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হচ্ছেন ড. আবদুল মঈন খান তথ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ প্রশাসনের উদাসীনতায় বুলবুলকে প্রাণ দিতে হলো: চরমোনাই পীর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর আজ ইরানকে দমাতে চীনের সাহায্য চায় যুক্তরাষ্ট্র, তবে বেইজিংয়ের ওপর ট্রাম্পের প্রভাব কম আমরা রিয়েল লাইফ এডুকেশনে যেতে চাচ্ছি: অর্থমন্ত্রী
Advertise with us

বিপ্লবের মশাতত্ত্ব কাজে আসেনি

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬   ১৮ বার পঠিত
বিপ্লবের মশাতত্ত্ব কাজে আসেনি

ছবি: সংগৃহীত

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : ১৯৪৫-৪৬ সালে ভারতবর্ষে যখন প্রায়-বিপ্লবী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, চতুর্দিকে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল, কমিউনিস্ট পার্টি তখন তাতে নেতৃত্ব দিতে পারেনি; কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ঐক্যের পক্ষে আওয়াজ তুলেছে। ফলে বুর্জোয়ারা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং খোলা পথে এগিয়ে যেতে পেরেছে, সমাজতন্ত্রীদের পেছনে ঠেলে দিয়ে। বুর্জোয়ারা ছিল নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে; তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল বড় একটা জায়গাজুড়ে। কমিউনিস্ট পার্টিও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, যদিও সুবিধা করতে পারেনি। ১৯৪৭-এ পেয়েছিল তিন আসন, ১৯৫৪-তে চারটি, এরশাদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পেয়েছিল পাঁচটি। ১৯৪৮-এ সশস্ত্র সংগ্রামের ভুল পথ ধরা এবং পরে নির্যাতনের মুখে পড়ে নরম পথ অবলম্বন; রুশ-ভারত বিভাজন, রুশপন্থিদের বুর্জোয়াপ্রীতি, সবকিছুই জাতীয়তাবাদীদের সাহায্য করেছে শক্তিশালী হতে। জাতীয়তাবাদীরা কমিউনিস্টদের জাতশত্রু জ্ঞান করেছে, এবং সেভাবেই তাদের কখনো উপেক্ষা, কখনো পীড়ন করেছে। চীনপন্থিদের উগ্রপন্থা গ্রহণও সমাজবিপ্লবী চরিত্রের ছিল না, ছিল পেটি বুর্জোয়া ধরনেরই। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন কমিউনিস্টদের একান্ত বান্ধব, কিন্তু কমিউনিস্টরা তাঁর সঙ্গে থাকতে পারেননি; রুশপন্থিরা বলেছেন, তিনি উগ্র, চীনপন্থিরা ভেবেছেন পেটি বুর্জোয়া; ফলে মওলানা ভাসানীকে সঙ্গে ও সামনে রাখলে যে শক্তি সংগ্রহের সম্ভাবনা ছিল, তা কাজে লাগেনি। কমিউনিস্টরা প্রান্তিক অবস্থানেই রয়ে গেছে, ‘বীরত্ব’ যা দেখাবার জাতীয়তাবাদীরাই দেখিয়েছে। বলাবাহুল্য বীরত্বের কেন্দ্রে ছিল ক্ষমতা দখলে রাখার এবং অর্থবিত্ত সংগ্রহ করার আকাক্সক্ষা। বুর্জোয়াদের জন্য মস্ত সুবিধা ছিল যে তারা প্রকাশ্যে কাজ করতে পারত, কমিউনিস্ট পার্টি বেশির ভাগ সময়েই থাকত নিষিদ্ধ।

শেখ মুজিবের ছয় দফার শেষ দফাটিতে, আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য ‘আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা’র কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আধা-সামরিক নয়, পুরো সামরিক বাহিনীই গঠিত হয়েছে; এবং সেই বাহিনীরই একাংশ অবিশ্বাস্য নৃশংসতায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেয়, এবং তারপরে নিজেদের মধ্যে মতবিভেদের ও ব্যক্তিগত রেষারেষির দরুন পারস্পরিক হত্যাকাণ্ড ঘটাতে থাকে। পাকিস্তান-প্রত্যাগত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ খুনাখুনির এক ঘটনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির আসন দখল করে নেন, এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম জারি করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যা ছিল সাংঘর্ষিক।

কিন্তু সামরিক-বেসামরিক বুর্জোয়া শাসকরা এক ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন; সেটি হলো বামপন্থিনিধন। অন্য অনেক ব্যাপারেই তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ শুধু নয় সুকঠিন শত্রুতা দেখা গেছে, কিন্তু এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে তাঁদের ঐক্য ছিল অভঙ্গুর। যুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনী গঠন করা হয়েছিল, যার মুখ্য লক্ষ্য ছিল বামপন্থিদের দমন করা। মুজিব বাহিনী হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ কতটা করেছে, তা অজ্ঞাত থাকলেও তারা যে বামপন্থিদের দমন, এমনকি হত্যা করতেও সংকোচবোধ করেনি সেটা জ্ঞাত সত্য। মুজিব বাহিনীর মতোই রাষ্ট্রীয়ভাবে গঠিত রক্ষীবাহিনীরও প্রধান কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল বামপন্থিদের দমন করা। একপর্যায়ে নকশাল দেখামাত্র গুলি করা হবে, এমন ঘোষণাও শোনা গিয়েছিল। কমিউনিস্টদের বিদেশি চর ও নাস্তিক বলে সামাজিকভাবে পীড়ন করার কাজটা শুরু হয়েছে পার্টির যাত্রা শুরুর মুহূর্ত থেকেই এবং সেটা পরেও অব্যাহতই থেকেছে। উদারনৈতিক জাতীয়তাবাদীরা কিছুটা ‘উদার’ ছিলেন, কমিউনিস্টদের ঠাট্টা করে বলতেন, ওরা ‘অতিপ্রগতিশীল’। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পাশাপাশি সামাজিক অনীহার মোকাবিলা করেই কমিউনিস্ট পার্টিকে এগোতে হয়েছে।

আর ছিল ভাববাদিতা ও আধ্যাত্মিকতার বন্ধন। ভারতবর্ষ দর্শনচর্চায় বস্তুবাদী যে ধারাটি বিদ্যমান ছিল, চার্বাক যার প্রধান বলে পরিচিত, ব্রাহ্মণ্যবাদীরা সেই ধারাটিকে ক্ষমতার বলে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। বৌদ্ধরা ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন মানবতাবাদী; সাম্যবাদীও বলতেন নিজেদের, কিন্তু বস্তুজগৎ সম্পর্কে তাঁদের যে খুব বেশি আগ্রহ ছিল তা নয়, তদুপরি তাঁরা ছিলেন ‘অহিংসা’র নীতিতে ও ব্যক্তিগত পরিবর্তনে আস্থাশীল যার প্রভাবের দরুন ব্রিটিশ ভারতে দলিতদের নেতা বি আর আম্বেদকর হিন্দুত্ববাদীদের ব্রাহ্মণ্যবাদী অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের হিন্দুধর্মীয় পরিচয় পরিত্যাগ করেন তখন তিনি মার্কসবাদের দিকে যাননি, বৌদ্ধ ধর্মের দিকে গেছেন অর্থাৎ ধর্মের মধ্যেই রয়ে গেলেন।

আধুনিক ভারতবর্ষে ভাববাদিতাকে পরিপুষ্ট করার কাজে সর্বাধিক প্রভাবশালী ছিলেন যে দুজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব; তাঁরা হচ্ছেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যদিও তাঁদের দুজনের ভিতর অন্য বিষয়ে বিস্তর পার্থক্য ছিল এ ক্ষেত্রে তাঁদের সম্পর্কটি ছিল মৈত্রীর। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন গান্ধী; তিনি বর্ণপ্রথার নিন্দা করেছেন বটে, তবে তার অবসান চাননি। তিনি অসাম্প্রদায়িক ছিলেন অবশ্যই; কিন্তু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যে ধর্মনিরপেক্ষ ছিলেন এমনটা বলার উপায় নেই। গান্ধীর ‘আপসকামী’ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে সুভাষচন্দ্র বসু সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পথে গেছেন, কিন্তু তিনিও আদতে জাতীয়তাবাদীই ছিলেন এবং সমাজতন্ত্রের কথা বললেও তাঁর সমাজতন্ত্র মোটেই মার্কসবাদী-লেনিনবাদী ছিল না, ছিল জাতীয়তাবাদী। ‘জাতীয় মুক্তি’র জন্য তিনি নাৎসি জার্মানি ও সাম্রাজ্যবাদী জাপানের সাহায্য প্রার্থনায় দ্বিধা করেননি। একসময়ে তিনি মুসোলিনীর প্রতিও অনুরাগ প্রকাশ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ সুভাষ বসুকে স্নেহ করতেন, তাঁর বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্বের তিনি প্রশংসা করেছেন এবং এটা তাৎপর্যহীন নয় যে সাময়িকভাবে হলেও তিনি নিজেও মুসোলিনীর প্রাথমিক কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেছেন। সুভাষ বসু খাঁটি বাঙালি ছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদেই বিশ্বাস করতেন। রবীন্দ্রনাথ বাঙালিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, কিন্তু তিনিও নিজেকে ভারতীয় বলে পরিচয় দিতে অপছন্দ করতেন না। জওহরলাল নেহরু সুভাষ বসুর যেমন নিকটবর্তী ছিলেন, তেমনি দূরেও সরে গেছিলেন-মূলত গান্ধীর ওপর ভরসার কারণে। তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি কমিউনিস্ট হয়ে যেতে পারতেন, যদি না চূড়ান্ত পরিচয়ে, জাতীয়তাবাদী না হতেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ সেখানকার সমাজব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নতি দেখে খুবই খুশি হয়েছিলেন, কিন্তু সামাজিক মালিকানাকে মোটেই সমর্থনযোগ্য বলে বিবেচেনা করেননি।

বাঙালিদের জন্য বিশেষ গৌরব বয়ে এনেছেন দুজন বৈজ্ঞানিক, জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭) এবং প্রফুল্লচন্দ্র রায় (১৮৬১-১৯৪৪)। জগদীশ বসুর কাজ বিশ্বনন্দিত। অদৃশ্য আলোকের ধর্ম উদ্ঘাটন ও বেতারযন্ত্রের উদ্ভাবন এবং বৃক্ষেরও যে প্রাণ আছে, সে রহস্য আবিষ্কার তাঁর অসামান্য বৈজ্ঞানিক কাজ। বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চাতেও তাঁর অবদান অত্যন্ত মূল্যবান; কিন্তু তিনি যে তাঁর বিশেষ ক্ষেত্র পদার্থবিদ্যা থেকে সরে গেলেন তাতে বাঙালির বস্তুবাদিতার অধ্যয়ন কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈকি। লাভ যদিও হয়েছে বৃক্ষের তথা প্রকৃতির। এ ক্ষেত্রে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের অনুসারী ভগিনী নিবেদিতার সঙ্গে আলাপের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বিবেকানন্দ ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণের অনুসারী এবং আপাদমস্তক একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। পদার্থবিদ্যার অধ্যয়নকে অবশ্য এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সত্যেন বসু। প্রফুল্লচন্দ্র রায় কিন্তু তাঁর নিজের যে বিষয়-রসায়ন, সেখানেই রয়ে গেছেন। তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল রসায়নকে শিল্পায়নের সঙ্গে যুক্ত করবেন। সেজন্য একদিকে তিনি যেমন ইন্ডিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটি গঠনে উদ্যোগ নিয়েছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন লাইফ অ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স অব এ বেঙ্গলি কেমিস্ট নামে, তেমনি, পাশাপাশি, রাসায়নিক দ্রব্য ও ঔষধ প্রস্তুতের জন্য কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিটিক্যাল ওয়ার্কসের।

বাংলার কমিউনিস্ট আন্দোলনে অসাধারণ মেধাসম্পন্ন মানুষ ছিলেন; তাঁরা আন্দোলন করেছেন, লিখেছেন, কারাভোগ ও পীড়ন সহ্য করেছেন, তবু হাল ছাড়েননি; কিন্তু তাঁদের কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়নি, তেমন একটা প্রসারও ঘটেনি। এর একটা কারণ পার্টির সাংগঠনিক দুর্বলতা; দ্বিতীয় কারণ, সেটা খুব বড় কারণ, সাতচল্লিশের দেশভাগ; যার ফলে পার্টিও দ্বিখণ্ডিত হতে বাধ্য হয়, অনেক নেতা ও কর্মী পূর্ববঙ্গ থেকে চলে যান, পার্টির সদস্যসংখ্যা ১২ হাজার থেকে ২ হাজারে নেমে আসে; রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সামাজিক বিদ্বেষে পার্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এর পরে আসে আন্তর্জাতিকভাবে সংশোধনবাদ এবং স্থানীয়ভাবে আপসকামিতা ও সুবিধাবাদ।

মার্কসবাদী-লেনিনবাদী সংগ্রামের প্রধান ভরসাগুলোর একটি হলো সংস্কৃতির বুদ্ধিবৃত্তি মানের উচ্চতা। বাংলাদেশের সেটির সহজপ্রাপ্তি ঘটেনি। একটি দৃষ্টান্ত নেওয়া যাক। জাতীয়তাবাদীদের এক ঐতিহাসিক সমাবেশে রুশপন্থি কমিউনিস্ট পার্টির একজন তাত্ত্বিকের পাশেই বসেছিলেন পার্টির অনুসারী একজন মেহনতি মানুষ। জাতীয়তাবাদীদের বক্তৃতাতে মুক্তির কথা বারবার উচ্চারিত হচ্ছে শুনে ওই মানুষটি তাঁর নেতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘এই বুর্জোয়ারা কী করে মুক্তি আনবেন? ক্ষমতায় গেলে তো এঁরাও ওই শোষণই করবেন।’ জবাবে তাত্ত্বিক তাঁকে এই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন, ‘এঁরা দেশি মশা, রক্ত শোষণ করলেও এদের আমরা আটকে রাখতে পারব। শোষিত রক্ত বের করে নিতে পারব। কিন্তু রক্তচোষা বিদেশি মশারা তো উড়ে চলে যাবে, তাদের ধরা যাবে না।’  শুনে মেহনতি মানুষটি কতটা আশ্বস্ত হয়েছিলেন জানা যায়নি, তবে সব মশাই যে উড়তে জানে-সেই সত্যটি মিথ্যা হওয়ার নয়। আগে যেমন পরেও তেমনি ভুক্তভোগী হয়েছেন মেহনতিরাই। বিপ্লবের মশাতত্ত্ব কোনো কাজে আসেনি।

♦ লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us