ছবি: প্রতিনিধি
বার্মিংহাম ( যুক্তরাজ্য ) থেকে : জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণসমাবেশে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তারা গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খেলাফত মজলিসের বার্মিংহাম শাখার সভাপতি মাওলানা আ. ফ. ম. শুয়াইবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আহমদ হুসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ।
তিনি বলেন, “জুলাইকে উপেক্ষা করে সরকার ভুল করছে।” জনগণের রায়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা কোনো সরকার যদি জনগণের প্রত্যাশাকে অগ্রাহ্য করে এবং তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে, তাহলে তার পরিণতি ইতিহাসে বারবার স্পষ্ট হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অধ্যাপক আব্দুল কাদের সালেহ বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের মূল শক্তি। তাই জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে সম্মান করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। জনরায়কে উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জনগণ যেভাবে আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বাংলাদেশের মানুষও যদি একইভাবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে, তাহলে দেশ আরও অনেক আগেই উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারত।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য নাগরিকদের আইন মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নাগরিক সমাজই একটি স্থিতিশীল ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ভোগের প্রসঙ্গে মুফতি আবুল হাসান বলেন, প্রবাসীদের আবেদন-নিবেদন, বিমানবন্দর ও ফ্লাইটসংক্রান্ত বিড়ম্বনাসহ বিভিন্ন সমস্যা তিনি সিলেটের অন্যান্য সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করবেন। প্রবাসীদের ন্যায্য দাবি ও সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এবং জুলাই বিপ্লবের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি রাজনৈতিক অঙ্গনে হতাশা সৃষ্টি করছে বলেও তারা মন্তব্য করেন। জাতীয় ঐক্য, জবাবদিহিতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের যুক্তরাজ্য সাউথ শাখার সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমান, নর্থ শাখার সভাপতি মুফতি তাজুল ইসলাম, ইউরোপের সহকারী পরিচালক ও কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ক্বারী আব্দুল মুকিত আজাদ, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি আইয়ুব খান এবং যুক্তরাজ্য নর্থের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এনামুল হাসান সাবির।
এ ছাড়া লজেলস কাউন্সিলর তাজ উদ্দিন, নর্থ শাখার সহসভাপতি আলহাজ্ব ইনামুর রহমান, মাওলানা আব্দুল মতিন, সহসভাপতি কবি মুফিদুল গনি মাহতাব, বিকেএমের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা নুরে আলম হামিদি, জকিগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা কামাল এমসি রহমান এবং এনসিপির মিডল্যান্ড প্রতিনিধি সাইফ রাজা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
হাফেজ মাওলানা ফখরুল ইসলামের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া গণসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বার্মিংহাম শাখার সহসভাপতি হাফিজ আনোয়ারুল হক, মইনুদ্দিন ইকবাল, সহসেক্রেটারি মাওলানা আসাদুজ্জামান, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ইউসুফ বিন আকিল, হাজী আব্দুস শহীদ, তারেক রেজা চৌধুরী, নুরুল ইসলাম, ব্রিস্টল শাখার সভাপতি আব্দুল আজিজ, লন্ডন মহানগরীর সহসেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হুসেইন, লাফবরা শাখার সভাপতি হাফিজ মাওলানা বজলুর রহমান এবং গ্লোস্টার শাখার সভাপতি মাওলানা ওলিউর রহমান।
কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাজী নুর মিয়া, হাজী আইয়ুব মিয়া, ইমাম ও খতিব হাফেজ শাকির হুসাইন, মুসলিম খান, সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, হাজী নজরুল ইসলাম, হাজী শাহজাহান আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।