ঢাকা
০৭ আগস্ট ২০২৬
Advertise with us

আড়াই বছর পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ১১২ মরদেহ, গাজায় গণ-জানাজা

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬   ১৮ বার পঠিত
আড়াই বছর পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ১১২ মরদেহ, গাজায় গণ-জানাজা

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার একটি আবাসিক ব্লক ধ্বংস হওয়ার আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা অন্তত ১১২ জন ফিলিস্তিনির মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন শিশু রয়েছে। মঙ্গলবার তাদের গণ-জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর গাজা সিটির সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় একটি আবাসিক ব্লক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ওই হামলায় বেদুইন বংশোদ্ভূত ফিলিস্তিনি গোত্র আল-হাসায়না-র অধিকাংশ সদস্য নিহত হন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় আবু শারিয়া নামেও পরিচিত বৃহত্তর আল-হাসায়না পরিবারের ৩০৮ জন নিহত হন। হামলার সময় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে ছিলেন। হামলার পরপরই প্রায় অর্ধেক মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করা হলেও বহু দেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। সম্প্রতি প্রায় ৪০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল টানা ১৭ দিন অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করে। পরে সেগুলো নিখোঁজ ১১২ জনের বলে শনাক্ত করা হয়।

গত মঙ্গলবার সাবরা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সমান করা একটি স্থানে মরদেহগুলো নিয়ে আসা হয়। সেখানে গণ-জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এটিকে গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় গণ-জানাজাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে। জানাজা শেষে স্বজন ও স্থানীয়রা কফিন কাঁধে নিয়ে কবরস্থানের উদ্দেশে রওনা হন। কফিনগুলো নিহত নারী, পুরুষ ও শিশুদের ছবি দিয়ে সাজানো ছিল।

আল-হাসায়না গোত্রের জীবিত সদস্য তাইসির আল-হাসায়না বলেন, “এই দিনটি আমাদের শোককে আবারও ফিরিয়ে এনেছে। প্রায় তিন বছর পরও ক্ষতগুলো নতুন করে জেগে উঠেছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, তারা শহীদ হিসেবে আল্লাহর সান্নিধ্যে রয়েছেন।”

আল জাজিরা জানায়, ২০২৩ সালের ওই হামলা নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি তারা।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও প্রায় আট হাজার মানুষের মরদেহ এখনো বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্য সূত্র- আল জাজিরা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us