ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বলেন, সারাদেশের চাহিদার তুলনায় ডাক্তার কম। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাশাষন ডাক্তার ইনক্লুড করে নাই। যার কারণে স্বাস্থ্য খ্যাতে বিভিন্ন সমস্যা হয়েছে। তারপরও আমাদের ডাক্তাররা ভাল সেবা দিচ্ছে। তারা নানা প্রতিকূলতায় ভাল কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান স্বাস্থ্য বিভাগের সমস্যায় কিছু সিস্টেমের পরিবর্তন আনতে হবে। আমি পরিদর্শণ কালে ৩ জনকে সাসেপেন্ড করেছি। আমি হাসপাতালের রান্নাঘর, বাথরুম, ওয়ার্ড ঘুরে দেখেছি। সবকিছু সন্তোষজনক পেয়েছি। আমাদের হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রপাতির প্রয়োজন। ডাক্তার প্রয়োজন। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিগত দিনের সরকার স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগ সহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন নি। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। দ্রুত সময়ে ডাক্তার সহ বিভিন্ন সংকট কেটে যাবে।
রবিবার (২৬ জুলাই) তিনি বিভিন্ন হাসপাতালের ওয়ার্ড, ওয়াশরুম, ওষুধের স্টোর, অপারেশন থিয়েটার (ওটি), অফিস কক্ষ এবং চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হাজিরা খাতা পরিদর্শন করেন। তিনি হাসপাতালের রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মান যাচাই করতে খাবার মুখে দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন।
তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মান সম্পর্কে তাদের মতামত নেন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরসহ হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে হাসপাতালের সেবার মান, সমস্যা ও উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসি চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, রোস্টার ডিউটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। অনেক সময় চিকিৎসকেরা হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করেন না। এগুলো নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। বিশেষ করে নার্সদের উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়। দেশের অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় এখানে নার্সদের উপস্থিতির হার কম। এটি দ্রুত ঠিক করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, দেশের চিকিৎসক সংকট কাটাতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। শিগগিরই মাটি পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজ শুরু হবে। সেখানে ৭ থেকে ৮ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ভবনে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক প্যারালাইসিস সেন্টার, ফিজিওথেরাপি সেন্টার, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার এবং ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা হবে।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী এলাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী উচ্চশিক্ষিত তরুণী শারমিন আক্তারের সঙ্গে কথা বলেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেধায় সন্তুষ্ট হয়ে আগামী ১ আগস্ট থেকে তাকে চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার , জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার কুদরতি খোদা, সিভিল সার্ভিস আব্দুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।