ছবি: সংগৃহীত
গুগল ক্রোম বেশি র্যাম ব্যবহার করে—এমন ধারণা অনেক কম্পিউটার ব্যবহারকারীর। তবে বেশি র্যাম ব্যবহার করলেই ব্রাউজারটি অকার্যকর, এমন নয়। ওয়েবসাইটের জটিলতা, একসঙ্গে একাধিক ট্যাব চালু রাখা এবং বিভিন্ন এক্সটেনশনের কারণে ক্রোমের মেমোরি ব্যবহার বেড়ে যেতে পারে।
আধুনিক ওয়েবসাইটগুলো এখন সাধারণ ওয়েবপেজের পরিবর্তে অনেকটা অ্যাপের মতো কাজ করে। ছবি, ভিডিও, অ্যানিমেশন ও বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ সুবিধা সচল রাখতে এসব ওয়েবসাইটের বেশি মেমোরি প্রয়োজন হয়।
প্রতিটি ট্যাবের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া
ক্রোম সাধারণত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ট্যাবকে আলাদা প্রক্রিয়ায় চালায়। ফলে একটি ওয়েবসাইটে সমস্যা হলেও অন্য ট্যাবগুলো সচল থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। পাশাপাশি এই পৃথক প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তাব্যবস্থা এক ওয়েবসাইট থেকে অন্যটির তথ্য অননুমোদিতভাবে পাওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে এর জন্য অতিরিক্ত র্যাম প্রয়োজন হয়।
র্যাম বেশি ব্যবহার করলেই কি সমস্যা?
কম্পিউটারের র্যাম ব্যবহার হওয়া মানেই সমস্যা নয়। প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত ব্যবহারের জন্য র্যাম কাজে লাগে। তবে কোনো ট্যাব বা এক্সটেনশন অস্বাভাবিকভাবে মেমোরি ব্যবহার করতে থাকলে সেটি ‘মেমোরি লিক’-এর লক্ষণ হতে পারে।
ক্রোমে Shift ও Esc একসঙ্গে চাপলে ব্রাউজারের নিজস্ব টাস্ক ম্যানেজার চালু হয়। সেখানে কোন ট্যাব বা এক্সটেনশন বেশি র্যাম ব্যবহার করছে, তা দেখা যায়। অস্বাভাবিক মেমোরি ব্যবহারকারী ট্যাব বা এক্সটেনশন শনাক্ত করতে এই সুবিধা কাজে আসতে পারে।
র্যাম ব্যবহার কমানোর উপায়
ক্রোমের সেটিংসের ‘পারফরম্যান্স’ বিভাগে থাকা ‘মেমোরি সেভার’ সুবিধা চালু করলে দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করা ট্যাবগুলো নিষ্ক্রিয় করে মেমোরি সাশ্রয় করা যায়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ট্যাবে ফিরে গেলে সেটি আবার সক্রিয় হবে।
এ ছাড়া কয়েকটি পদক্ষেপে র্যামের ব্যবহার কমানো সম্ভব—
মাইক্রোসফট এজেও নিষ্ক্রিয় ট্যাবকে ঘুম পাড়িয়ে মেমোরি সাশ্রয়ের সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, সিস্টেমের মেমোরি কমে গেলে মজিলা ফায়ারফক্স কিছু ট্যাবের কার্যক্রম স্থগিত করতে পারে।
ক্রোম ধীর হলে কী করবেন?
ক্রোম ধীরগতির হলেই শুধু র্যাম ব্যবহারের পরিমাণকে দায়ী করা উচিত নয়। অপ্রয়োজনীয় ট্যাব ও এক্সটেনশন বন্ধ করার পাশাপাশি ব্রাউজার পুনরায় চালু করে দেখা যেতে পারে। কম্পিউটারের স্টোরেজ প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়া কিংবা ধীরগতির ইন্টারনেট সংযোগও ব্রাউজিংয়ের গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ক্রোমের বেশি র্যাম ব্যবহার সব সময় ত্রুটির লক্ষণ নয়। তবে ব্রাউজার অস্বাভাবিক ধীর হয়ে গেলে বা মেমোরির ব্যবহার বেড়ে গেলে কোন ট্যাব কিংবা এক্সটেনশন এর জন্য দায়ী, তা পরীক্ষা করা জরুরি।