
| শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ | প্রিন্ট
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘এক সময়’ ভদ্রলোক থাকলেও এখন অভদ্র হয়ে যাচ্ছেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ। আর কেন এই রূপান্তর, সেই প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।
শুক্রবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও সমাবেশে যোগ দিয়ে এই প্রশ্ন রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারার’ প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করে স্বাধীনতা পরিষদ নামে একটি সংগঠন।
হাছান মাহমুদ বিএনপি মহসচিবকে এই আক্রমণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় বক্তব্যের জন্য।
গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে যাওয়া বামপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগ। বড় দিয়ে বেদম পিটুনিতে আহত করা হয় বেশ কয়েকজনকে।
পরদিন বনানী কবরস্থানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফখরুল বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে, সেটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র। এটা ছাত্রলীগের জন্য নতুন কোনো ব্যাপার না। তারা বহুবার শিক্ষকদের মেরেছে, ছাত্র-ছাত্রীদের মেরেছে।’
এমন সমালোচনার জবাবে হাছান বলেন, ‘এই ঘটনার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আরাফাত রহমান কোকোর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে যে ভাষায় কথা বলেছেন আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আর ভদ্র লোক বলতে পারি না।’
‘তিনি ভদ্র লোকের বেশ ধরে যে শব্দগুলো উচ্চারণ করেছেন আমি সেই শব্দগুলো উচ্চারণ করতে পারছি না। তিনি যে ভাষায় কথা বলেছেন এটি কোন ভদ্র লোকের ভাষা নয়।’
হাছান বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলব, আপনি ভদ্রলোক ছিলেন কিন্তু দিনে দিনে কেন অভদ্র হয়ে যাচ্ছেন এটাই আমার প্রশ্ন।’
গণমাধ্যমের সমালোচনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটি গণমাধ্যমে সঠিকভাবে আসেনি বলেও দাবি করেন হাছান। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে উপাচার্য কার্যালয়ের গেইট ভাঙচুর হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে, একটি পত্রিকা সেটাকে দোষ হিসেবে দেখছে না।
‘যারা প্রথমে ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করলো, ভিসিকে অপদস্থ করল এবং ভিসি কার্যালয়ের তিন তিনটি গেইট ভাংচুর করল, ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের যারা লাঞ্ছিত করল, তাদের অপরাধ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।’
প্রথমে যারা গেইট ভাঙচুর করেছে, ভিসিকে অপদস্থ করেছে তাদের অপরাধ আড়াল করতে একটি পক্ষ ছাত্রলীগের দোষ খোঁজার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন হাছান। বলেন, ‘ছাত্রলীগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি পক্ষ সবসময় তৎপর থাকে।’
‘আগুন জ্বালালে নিজেরাই ছাড়খার হবেন’
দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে গেলে ‘আগুন জ্বালালে’ সে আগুনে নিজেকেই পুড়তে হবে বলেও বিএনপি নেতাদের সতর্ক করেছেন হাছান মাহমুদ।
হাছান বলেন, ‘রিজভী সাহেব ও বিএনপির নেতাদের বলতে চাই, আপনারা দেশে অতীতেও আগুন জ্বালিয়েছেন। সেই আগুনে আপনারাই জ্বলেছেন।’
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হবে। বৃহস্পতিবার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপির চেয়ারপারস বেগম খালেদা জিয়ার কোন অশুভ ধারা পড়লে, সারা দেশে আগুন জ্বলবে।’
এর জবাবে হাছান বলেন, ‘আদালতের রায়ে যদি খালেদা জিয়ার সাজা হয়, বিচারের রায়ে যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, দেশে নাকি আগুন জ্বলবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব, আবার যদি আগুন জ্বালানের চেষ্টা করেন তাহলে সেই আগুনে আপনারাই জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাবেন।’
এখন আদালত স্বাধীন জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া হয়তো খালাসও পেতে পারেন।’ বিএনপি আমলে আদালত স্বাধীন ছিল না বলে সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিএনপি নেতারা নানা কথা বলছেন বলেও দাবি করেন হাছান।
‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্বাধীন বিধায় আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপিরা কারাগারে আছেন। মন্ত্রীদের আদালতে গিয়ে হাজিরা দিতে হয়। এমনকি মন্ত্রীদের আদালতে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিচার হয়। ফাঁসি হয়।’
৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিচারের রায়ের আগে-পরে দেশে বিশৃঙ্খলা হতে পারে বলে দলের নেতা-কর্মীদেরকেও সতর্ক করেন হাছান। জনগণকে সাথে নিয়ে বিশৃঙ্খলাকারীদেরকে প্রতিহত করতে ‘অতন্দ্র প্রহরীর মতো’ সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন তিনি।
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ মসম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েলের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দারও এ সময় বক্তব্য রাখেন।
Posted ০৯:১২ | শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৮
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | Athar Hossain