
| বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ | প্রিন্ট
ছবি-আঁকা এক বান্ডিল কার্ড দু’হাতে। গলায় হলদেটে স্কার্ফ, অবিন্যস্ত কাঁচাপাকা চুল। মোবাইলে তোলা ভিডিওটায় যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল লাগোয়া বেলভিউয়ের রাস্তায় দাঁড়ানো এক ভদ্রমহিলা জানাচ্ছেন, তিনি কলকাতার নিউ আলিপুরের বাঙালি। খড়গপুর আইআইটি থেকে পাশ করা প্রকৌশলীও।
২০০০ সালের দিক যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করতে এসে এখন রাস্তায় ছবি বেচে পেট চালাচ্ছেন। তিনি জয়শ্রী তলাপাত্র গিল এখন একটা চাকরি চান।
একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সামনে তাকে ছবি বিক্রি করতে দেখে দুই ভারতীয় যুবক কথা বলেন জয়শ্রীর সঙ্গে। তারাই ওই ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেন। জয়শ্রী ভিডিওয় নিজের মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন। বুধবার সেই নম্বরেই তিন বারের চেষ্টায় পাওয়া গেল তাকে।
জয়শ্রী বললেন, ‘আমার পাসপোর্ট, গ্রিন কার্ড সব চুরি হয়ে গিয়েছে। ফটোকপিগুলো শুধু আছে। একটা মোটেলে থাকি। নিজের ছবি বিক্রির টাকায় বিল মেটাচ্ছি।’
কীভাবে এই দুর্দশা হলো, তার খুব একটা স্পষ্ট উত্তর দিতে পারলেন না জয়শ্রী। ক্ষীণ গলায় বারবার ধরা পড়ল অসংলগ্নতা।
যেখানে তিনি ছবি বিক্রি করেন, তার কাছেই মাইক্রোসফটের দপ্তর।
সেখানে কর্মরত, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাঙালি তরুণী জানান, ভিডিও দেখে তিনিও ফোন করেছিলেন জয়শ্রীকে। জয়শ্রী তাকে বলেছিলেন, কলকাতায় তার এক ভাই ও এক বোন থাকেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বোনের সঙ্গে শেষ বার কথা হয়েছিল। তার পরে আর যোগাযোগ করতে পারছেন না।
কিন্তু জয়শ্রী বললেন, ‘গতকালকেও (মঙ্গলবার) ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
দেশে ফিরতে চান কি না, জিজ্ঞাসা করা সত্ত্বেও ক্রমাগত বলে গেলেন, ‘এখানে অনেক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে।’ কী রকম জটিল পরিস্থিতি, তা-ও খুব একটা বোধগম্য হলো না।
জয়শ্রী বললেন, ‘একটা গেম খেলা হচ্ছে। আমাকে হেনস্থা করা হচ্ছে নানাভাবে। মাফিয়ারা আমার তৈরি সফটওয়্যার চুরি করেছে।ছবিও চুরি হয়েছে।’
মাইক্রোসফটের ওই কর্মীকে জয়শ্রী বলেছিলেন যে, ১৯৯১ সালে আইআইটি খড়গপুর থেকে পাশ করার পরে তিনি আইআইএসসি বেঙ্গালুরুতে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে না গিয়ে দিল্লি আইআইটি-তে গবেষণা করেন কিছু দিন। ২০০০ সালে একটি টেলিকম সংস্থার চাকরি পেয়ে চলে যান টেক্সাসের রিচার্ডসনে। ২০০১ সালে সেখানেই মার্কিন নাগরিক ব্রায়ান গিলের সঙ্গে পরিচয় ও বিয়ে।
সেই প্রসঙ্গ তুলতে জয়শ্রী বললেন, ‘২০০৫-এ একটা দুর্ঘটনার পরে ব্রায়ান নিখোঁজ হয়ে গেল। ২০০৯ সালে ফিরে এল। কিন্তু আবার চলে গেল। ওকে শেষ দেখি ২০১৪ সালে।’
তার পরে? জয়শ্রী বলেন, ‘চাকরি করছিলাম। টিসিএসে, কগনিজেন্টে। তারপরে চাকরি চলে গেল। আমার সব জিনিসপত্রও চুরি হয়ে গেল।’
মার্কিন পুলিশের রেকর্ড বলছে, শান্তি ভঙ্গ করার দায়ে টেক্সাসে এক বার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন জয়শ্রী।
এলোমেলো কথা। শত্রুর ভয়। আবার ঘোর অনিশ্চিতের মুখেও উদাসীন। চর্চা চলছে, কীভাবে দেশে ফেরানো যায় তাকে? কলকাতায় এ দিন জয়শ্রীর বোনকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। এসএমএসেরও জবাব দেননি।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
Posted ০৮:৩০ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৮
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | Athar Hossain